দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। এবারের আসরে আটটির বদলে ১২টি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল থাকায় শক্তির ভারসাম্যে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রুপ অব ডেথ’ খুঁজে পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ না থাকলেও গ্রুপ পর্বে উত্তেজনাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ম্যাচের কোনো ঘাটতি থাকবে না। নকআউট পর্বে উঠবে মোট ৩২টি দল। তার আগেই কিছু ম্যাচ টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমনই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে নজর রাখতে পারেন।
ব্রাজিল বনাম মরক্কো (১৩ জুন):
ব্রাজিল দলে কি নেইমারকে পাওয়া যাবে? ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেলেও, কাফ ইনজুরির (পায়ের পেশির চোট) কারণে বিশ্বকাপের শুরুতেই তার মাঠে নামা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি যদি খেলতে নাও পারেন, তবুও এই ম্যাচ ঘিরে রয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও আকর্ষণ।
ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। আর তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে এমন এক দল, যারা সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতেছে এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছিল।
নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান (১৪ জুন):
এই ম্যাচের মাধ্যমেই গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে। তবে ডাচরাই এই গ্রুপে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাবে, এমনটা আগেভাগেই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে জাপান ছিল অপ্রতিরোধ্য। তাছাড়া গত দুটি বিশ্বকাপেই তারা শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছিল। বিশ্বকাপের বর্তমান বর্ধিত ফরম্যাটের কারণে দুই দলেরই নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দল দুটি ড্র করতেই সন্তুষ্ট থাকে নাকি জয়ের জন্য মাঠে নামে।
ফ্রান্স বনাম সেনেগাল (১৬ জুন):
২০২২ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্স তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে সেনেগালের বিপক্ষে। এই সেনেগাল দলে এমন সব প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন, যারা নকআউট পর্বে অনেক দূর যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। মরক্কোর যে এবার আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতেছে, তা কিন্তু এই সেনেগালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেই। অতিরিক্ত সময়ে রেফারির কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগাল দল একযোগে মাঠ বর্জন করে। যদিও পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচটি সেনেগালই জিতেছিল। এর কয়েক মাস পর, আফ্রিকান ফুটবল ফেডারেশন রায় দেয় যে, মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেনেগাল আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচটি ‘ফরফিট’ বা হাতছাড়া করেছে। ফলে মরক্কোকে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া (১৭ জুন):
দুই দলের জন্যই এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। আর এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ২০১৮ সালের সেমিফাইনালের একটি পুনরাবৃত্তি। সেবার অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। ক্রোটদের দলে এবারও নেতৃত্বে থাকছেন ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচ এবং ৩৭ বছর বয়সী ইভান পেরিসিচ। তবে মদ্রিচকে এবার হয়তো বদলি বা পার্শ্বচরিত্রে বেশি দেখা যেতে পারে। কারণ ক্রোয়েশিয়ার ৮টি বাছাইপর্বের ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই তিনি সাইড বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেছিলেন।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। ইংলিশদের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ খরা এবার কাটবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের উইঙ্গারদের ওপর। বিশেষ করে স্ট্রাইকার হ্যারি কেন যখন নিচে নেমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেবেন, তখন উইঙ্গাররা কতটা গতিতে বল নিয়ে সামনে এগোতে পারেন, সেটাই হবে দেখার বিষয়।
মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া (১৮ জুন):
কাগজ-কলমে এটি মেক্সিকোর জন্য গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ। কারণ গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়া দলের নেতৃত্বে থাকছেন টটেনহ্যামের সাবেক তারকা এবং বর্তমান এলএএফসি ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন। এছাড়া রক্ষণভাগে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার কিম মিন-জে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচ না হেরে, অত্যন্ত সহজেই বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে দক্ষিণ কোরিয়ানরা।
জার্মানি বনাম ইকুয়েডর (২৫ জুন):
গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার চার বছর পর, জার্মানির এবার পরের রাউন্ডে যাওয়া উচিত। কারণ, ৪৮ দলের এই বর্ধিত বিশ্বকাপের ৩২টি দলই নকআউট পর্বে জায়গা পাবে।
তবে ইকুয়েডরের রক্ষণব্যুহ জার্মানি কীভাবে ভাঙবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ ইকুয়েডর নিশ্চিতভাবেই রক্ষণাত্মক খেলে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করবে। লাতিন আমেরিকার অঞ্চলের বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে ইকুয়েডর গোল হজম করেছে মাত্র ৫টি। এই অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রক্ষণাত্মক দল ছিল প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা, যারা প্রত্যেকে ১০টি করে গোল হজম করেছিল।
তুরস্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র (২৫ জুন):
গ্রুপ ‘ডি’-এর চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ কে হবে, তা কি এই ম্যাচই নির্ধারণ করবে? ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ বা নকআউট পর্ব পেরিয়ে কোনোমতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তুরস্ক। তবে সাধারণত পট-৪ এ যেমন দল থাকে, তুরস্ক তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এমনকি তারা এই গ্রুপের সেরা দল— এমন যুক্তিও দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
এদিকে, স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ম্যাচে নামার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার (আগের দুটি ম্যাচ জেতার) কথা। প্যারাগুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। তবে নিজেদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য যেকোনো ফলাফলই হবে মার্কিনদের জন্য চরম হতাশাজনক।
নরওয়ে বনাম ফ্রান্স (২৬ জুন):
এটিই কি গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সেরা ম্যাচ? ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলা যায়, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো দুই তারকা স্ট্রাইকারের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ।
বাছাইপর্বে নরওয়ে ছিল একটি গোলমেশিনের মতো। ফলে তারা ফরাসি দলের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ ফ্রান্স সাধারণত খুব একটা ‘প্রেসিং’ ফুটবল খেলে না। এখন প্রশ্ন হলো, ফ্রান্স কীভাবে হালান্ডকে আটকে রাখবে? আর নরওয়ের রক্ষণভাগে কি এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে এবং ফ্রান্সের বাকি আক্রমণভাগকে সামলানোর মতো পর্যাপ্ত প্রতিভা বা শক্তি আছে?
উরুগুয়ে বনাম স্পেন (২৬ জুন):
এমন একটা সম্ভাবনা আছে যে, এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত খুব একটা গুরুত্ব নাও পেতে পারে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ সৌদি আরব এবং কেপ ভার্দে থাকায়, স্পেন ও উরুগুয়ে উভয়ের সামনেই শীর্ষ দুইয়ে থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সহজ সুযোগ রয়েছে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আসল পুরস্কার পাওয়া যাবে। তাই সম্ভব হলে উরুগুয়ের উচিত হবে স্পেনের কাছ থেকে শীর্ষ স্থানটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্স-আপ দলকে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ ‘এল’-এর রানার্স-আপ দলের। সেই দলটি ইংল্যান্ডও হতে পারে, তবে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা বা পানামা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
অন্যদিকে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্স-আপ দলের বিরুদ্ধে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে আর্জেন্টিনা সহজেই গ্রুপ ‘জে’-তে চ্যাম্পিয়ন হবে, তবে উরুগুয়ে বা স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া অথবা জর্ডান।
কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল (২৭ জুন):
হামেস রদ্রিগেজ কলম্বিয়াকে কতদূর নিয়ে যেতে পারবেন? ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বিশ্বকাপে তার জাতীয় দলের জন্য সবসময়ই এক জাদুকরের ভূমিকা পালন করেছেন।
অন্যদিকে, পর্তুগালের হয়ে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কতটুকু সময় মাঠে থাকবেন? পর্তুগাল তাকে বিশ্বকাপে না নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেনি। তবে মাঠের খেলায় তাকে ছাড়াও দলটি কিন্তু আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। কোনো বড় অঘটন না ঘটলে, এই দুটি দলই গ্রুপ ‘কে’-এর সেরা দুই শক্তি।
কেএম